কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬ এ ০৫:৫২ PM
কন্টেন্ট: পাতা
মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ
নারীশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র গত শতাব্দীর আশির দশকের মধ্যভাগে ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ মেহেরপুর মহকুমা উন্নীত হয় জেলায়। সিভিল প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, উদীয়মান শিক্ষিত মধ্যবিত্ত, সমাজসেবী, রাজনীতিক ও সুশীল সমাজ মেহেরপুর শহরে একটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এতদপ্রেক্ষিতে ১৯৮৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মেহেরপুর মহিলা কলেজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয় তৎকালীন জেলাপ্রশাসক এ এইচ এম মাসুদের মাধ্যমে। প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ড. গাজী রহমান। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে একটি জনপদের নারী উন্নয়ন, সমাজ রূপান্তর, নারীর স্বপ্ন পূরণ ও মানবসম্পদ সৃজন তথা নারীর ক্ষমতায়নের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হতে পারে কেবলই মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ। এলাকার জনগণের মধ্যে শিক্ষাগ্রহণের আকাঙ্খা জাগ্রতকরণ, মানবসম্পদ সৃজন, বিজ্ঞানচিন্তার প্রসার ও নারীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষা বিস্তারে কলেজটির অবদান অপরিসীম। সূচনালগ্ন থেকে প্রতিষ্ঠানটি মেয়েদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে সুপরিকল্পিত পদ্ধতিতে পাঠ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চার দশকের পরিক্রমায় এ কলেজ সৃষ্টি করেছে বিপুল সংখ্যক কৃতবিদ্য শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তাসহ খ্যাতিমান পেশাজীবী। প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অনুধাবন করে বাংলাদেশ সরকার ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে কলেজটি জাতীয়করণ করে। কলেজ জাতীয়করণকালে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন আবু বকর সিদ্দিকী। জাতীয়করণের পর থেকে কলেজটি বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সার্বিক নির্দেশনা অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে।
অবস্থান
শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ২.৫ একর জমির উপর সবুজ, শ্যামল, শান্ত, স্নিগ্ধ ও নিরিবিলি পরিবেশে এর অবস্থান।
শিক্ষা কার্যক্রম
উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি:
স্নাতক (সম্মান) শ্রেণি: বাংলা ও অর্থনীতি
স্নাতক (পাস) শ্রেণি: বিএ, বিবিএস ও বিবিএ (পাশ) কোর্স
উপস্থিত বক্তৃতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, স্কাউটিং, বিএনসিসি, আন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বার্ষিক শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, বহিঃক্রীড়া প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা, ভাষা প্রতিযোগ, নবীনবরণ ও শিক্ষা সফর।
আসন সংখ্যা
বিভিন্ন স্তর | আসন |
|---|---|
উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান শাখা | ১৮০ টি |
উচ্চ মাধ্যমিক মানবিক শাখা | ৫৫৫টি |
উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবসায় শিক্ষা শাখা | ১৬০ টি |
স্নাতক (সম্মান): অর্থনীতি | ৫০টি |
স্নাতক (সম্মান): বাংলা | ৭০টি |
বিএ, বিবিএস ও বিবিএ (পাশ) কোর্স | ১৯০টি |
অর্জন
কলেজটি ২০১৬ এবং ২০১৭ সালের আইসিটি ডিজিটাল মেলায় মেহেরপুর জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে নির্বাচিত হয়। ডিজিটাল উদ্ভাবনী সেবা প্রদান ক্যাটাগরিতে কলেজটি ২০১৭সালে খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ কলেজ, ২০২৩ সালে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়।
পাঠ কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার
অবকাঠামো
একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ছাত্রী কমনরুম, ৮০ আসন বিশিষ্ট ছাত্রীনিবাস, ক্যান্টিন, শহিদ মিনার, খেলার মাঠ এবং ছয়তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন (বিজ্ঞান ভবন) ।