কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬ এ ১১:০২ AM
কন্টেন্ট: পাতা

এক নজরে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর একটি দীর্ঘ ও গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। এই সংগঠনের (তৎকালীন ইউওটিসি) অনেক সদস্য আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছিলেন। ১৯৫০ সালের 'ইন্ডিয়ান টেরিটোরিয়াল ফোর্স অ্যাক্ট'-এর বিধান অনুযায়ী ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৪৬ নম্বর বিএনসিসি আইন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। এই সংগঠনের মূল কাজ হলো স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সংগঠিত ও প্রশিক্ষিত করা, যাতে তাদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলী, কর্তব্যবোধ, অঙ্গীকার, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা এবং নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে এবং তারা সুনাগরিক ও দেশের উপযোগী নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
বিএনসিসি ক্যাডেট
বিএনসিসি আইন ২০১৬-এর অধীনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের 'ক্যাডেট' বলা হয়। ক্যাডেটরা মূলত যেসব স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনসিসি-এর কার্যক্রম রয়েছে, সেখানকার শিক্ষার্থী। ক্যাডেটরাই বিএনসিসি-এর মূল চালিকাশক্তি, যারা দেশের জন্য স্বেচ্ছায় কাজ করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষিত ও প্রস্তুত থাকে।
বিএনসিসি-এর মূলমন্ত্র
জ্ঞান ও শৃঙ্খলা।
বিএনসিসি-এর চেতনা
স্বেচ্ছাসেবী।
বিএনসিসি-এর উদ্দেশ্য
স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষিত করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা, যাতে তারা শান্তি ও যুদ্ধ—উভয় সময়েই সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দেশের সেবা করতে পারে।
কাজ ও দায়িত্ব
১. জাতীয় যেকোনো জরুরি অবস্থায় দেশের সেবা করার জন্য প্রস্তুত থাকা।
২. মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিপন্ন নাগরিক ও দেশের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা প্রদান করা।
৩. জাতীয় অখণ্ডতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তাকারী শক্তি হিসেবে কাজ করা।
৪. সরকার কর্তৃক অর্পিত যেকোনো দায়িত্ব পালন করা।
বিএনসিসি ক্যাডেট হওয়ার সুবিধাসমূহ
সশস্ত্র বাহিনীতে ক্যারিয়ার গঠনে অগ্রাধিকার: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীতে অফিসার পদে যোগদানের ক্ষেত্রে বিএনসিসি ক্যাডেটরা বিশেষ অগ্রাধিকার পায়। এছাড়া সৈনিক/নাবিক/বিমানসেনা পদে ভর্তির ক্ষেত্রেও ক্যাডেটদের জন্য কোটা বা বিশেষ ছাড় থাকে।
উচ্চশিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে সুবিধা: বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে ভর্তির ক্ষেত্রে এবং সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন চাকুরিতে বিএনসিসি সার্টিফিকেটধারী ক্যাডেটদের বিশেষ মূল্যায়ন করা হয়।
বিনামূল্যে পোশাক ও প্রশিক্ষণ: ক্যাডেটদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সামরিক ইউনিফর্ম, বুট, ক্যাপ এবং অন্যান্য লজিস্টিক সামগ্রী প্রদান করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি ক্যাম্পে যাতায়াত, থাকা ও খাওয়ার সম্পূর্ণ খরচ বিএনসিসি বহন করে।
বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ: মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ক্যাডেটরা সম্পূর্ণ সরকারি খরচে ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে ভ্রমণের সুযোগ পায়।
ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের বিকাশ: প্রাতিষ্ঠানিক ড্রিল, অস্ত্র প্রশিক্ষণ এবং ক্যাম্পিংয়ের মাধ্যমে একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর মধ্যে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস, দলগতভাবে কাজ করার ক্ষমতা (Teamwork) এবং পাবলিক স্পিকিংয়ের দক্ষতা তৈরি হয়।
ভর্তির যোগ্যতা
শিক্ষাগত যোগ্যতা: কলেজে চলমান শিক্ষাবর্ষের [উচ্চ মাধ্যমিক/স্নাতক (পাস)/স্নাতক (সম্মান)] প্রথম বর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী হতে হবে।
জাতীয়তা: বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
শারীরিক যোগ্যতা:
উচ্চতা: বিএসিসি নীতিমালা অনুযায়ী।
ওজন: বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী মেডিকেল স্ট্যান্ডার্ড বা আদর্শ ওজনের হতে হবে।
দৃষ্টিশক্তি: স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন হতে হবে।
মানসিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য: প্রার্থীকে অবশ্যই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী, ধূমপান বা মাদকাসক্তিমুক্ত এবং শৃঙ্খলাপরায়ণ মানসিকতার হতে হবে। কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড থাকা চলবে না।
ভর্তি প্রক্রিয়া
কলেজে প্রতি বছর নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ে বিএনসিসি-র নতুন ক্যাডেট বা রিক্রুট (Recruit) ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। প্রক্রিয়াটি সাধারণত নিম্নরূপ ধাপে সম্পন্ন হয়:
১. বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ: কলেজের নোটিশ বোর্ড, অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পেজে বিএনসিসি প্লাটুনের পক্ষ থেকে ভর্তির আবেদন আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।
২. আবেদন ফরম সংগ্রহ: আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিএনসিসি অফিস অথবা প্লাটুন কমান্ডারের কাছ থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করে তা সঠিকভাবে পূরণ করে জমা দিতে হবে।
৩. প্রাথমিক যাচাই ও শারীরিক পরীক্ষা: আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের একটি নির্দিষ্ট দিনে শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষা (উচ্চতা, ওজন, বুক ও দৃষ্টিশক্তি পরিমাপ) এবং রানিং/শারীরিক ফিটনেস টেস্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
৪. মৌখিক পরীক্ষা (Viva-Voce): শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সাধারণ জ্ঞান, দেশপ্রেম, নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিকতা এবং এক্সট্রা-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজের (যেমন: খেলাধুলা, গান, আবৃত্তি বা সংগঠন করার অভিজ্ঞতা) ওপর ভিত্তি করে একটি সংক্ষিপ্ত মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।
৫. চূড়ান্ত নির্বাচন: শারীরিক ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং নির্বাচিতদের ক্যাডেট হিসেবে প্লাটুনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
প্রধান কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণসমূহ
১. প্রাতিষ্ঠানিক ও সামরিক প্রশিক্ষণ
ড্রিল ও শৃঙ্খলা: ক্যাডেটদের শারীরিক গঠন ও মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত ড্রিল (কুচকাওয়াজ) প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
অস্ত্র প্রশিক্ষণ: ক্যাডেটদের প্রাথমিক ফায়ারিং ও ক্ষুদ্রাস্ত্র পরিচালনার নিয়ম শেখানো হয়।
ফিল্ড ক্রাফট ও ট্যাকটিকস: মানচিত্র পঠন (Map Reading), ক্যাম্পিং এবং কৌশলগত ফিল্ড ট্রেনিং প্রদান করা হয়।
২. ব্যাটালিয়িন, রেজিমেন্ট ও সেন্ট্রাল ক্যাম্প
ক্যাডেটরা প্রতি বছর ব্যাটালিয়িন, রেজিমেন্ট ও সেন্ট্রাল ক্যাম্পসহ বিভিন্ন ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। এই ক্যাম্পগুলো ক্যাডেটদের বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শেখায়।
৩. সমাজসেবামূলক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম
ক্যাডেটরা কলেজের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক দায়িত্ব পালন করে থাকে:
রক্তদান কর্মসূচি ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা সহায়তা।
জাতীয় দুর্যোগ ও মহামারির সময়ে ত্রাণ বিতরণ এবং স্বেচ্ছাসেবী ভূমিকা পালন।
বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।
মাদকবিরোধী র্যালি, ট্রাফিক সচেতনতা ও যৌতুকবিরোধী প্রচারণায় অংশগ্রহণ।
মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ বিএনসিসি
মেহেরপুর সরকারি মহিলাকলেজ, মেহেরপুরে বিএনসিসি সুন্দরবন রেজিমেন্টের অধীনে সেনা উইংয়ের একটি সক্রিয় প্লাটুন রয়েছে।
| প্লাটুন কমান্ডার |
মোঃ হুমায়ুন আহমেদ প্রফেসর আন্ডার অফিসার (পিইউও) মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ মেহেরপুর |